চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। লিটন দাসের বাদ পড়া ও পারভেস হোসেন ইমনের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া দলে তেমন কোনো চমক নেই। তামিম ইকবাল দল ঘোষণার কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাকিব আল হাসান সম্প্রতি বোলিং নিষেধাজ্ঞায় পড়ায় দলে সুযোগ হয়নি তারও। যদিও ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে দলে সুযোগ দেওয়া যেত কিন্তু নির্বাচকরা শুধু ব্যাটসম্যান সাকিবকে দলে রাখাটা যুক্তিযুক্ত মনে করেননি।
লিটন দাসের বাদ পড়া নিয়ে আগে থেকেই একটা গুঞ্জন চলছিল। সাদা বলের ক্রিকেটে তার রান খরা চলছিল অনেকদিন ধরেই। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের সাথে ফিফটি করার পর পরবর্তী ১৪ ম্যাচে নেই কোনো ফিফটি। এমনকি সর্বশেষ ৭ ম্যাচে দুই অঙ্কের কোটাও স্পর্শ করতে পারেনি তার ব্যাট। এমন পারফরমেন্সের পর নির্বাচকদের নজরে তিনি থাকবেন না এটাই স্বাভাবিক। যদিও সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কিন্তু সেখানেও হাসেনি লিটনের ব্যাট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম এবং হাসান মাহমুদ। বাদ পড়ার কারণ মূলত পারফরমেন্স। শরিফুলের কিছুটা ইনজুরিও আছে। তার জায়গায় দলে জায়গা হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জয়ী অলরাউন্ডার পারভেস হোসেন ইমনের। ইতিমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে ৭টি টি২০ ম্যাচ খেললেও এখনো ওয়ানডে অভিশেক হয়নি তার। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর মতে, পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং সক্ষমতার কারণেই তাকে স্কোয়াডে সুযোগ দেয়া হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলকে নেতৃত্ব দিবেন নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মাঝখানে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে কয়েকটি সিরিজে অন্যান্য খেলোয়াররা অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে বোর্ড আবার তার উপরই ভরসা রেখেছেন এবং শান্তও এতে সম্মতি দিয়েছেন। সিনিয়রদের মধ্যে দলে আছেন মুসফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলে পেসার রয়েছেন চারজন আর স্পিনার তিনজন। সব মিলিয়ে দল মোটামুটি ব্যালেন্সড বলা যায়।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াড:
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, পারভেজ হোসেন ইমন, নাসুম আহমেদ ও নাহিদ রানা।
আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সাথে দ্বিতীয় ম্যাচ এবং ২৭শে ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিউজিল্যান্ডের সাথে শেষ ম্যাচ খেলবে টাইগাররা! উল্লেখ্য, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসর এককভাবে পাকিস্তানে হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের আপত্তির কারণে হাইব্রিড মডেলে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যৌথভাবে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ভারতের সবগুলো ম্যাচ দুবাইতে অনুষ্ঠিত হবে।
2 মন্তব্যসমূহ
বাংলাদে চেমপিয়ান ইসকয়াড
উত্তরমুছুনশান্তর বাদ দিতে হবে
উত্তরমুছুন