গতকাল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের হারের প্রতিশোধ নেয়ার পাশাপাশি এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী হয়েছে রোহিত শর্মার দল। আইসিসির শেষ চারটি মেজর ইভেন্টের সবগুলো ফাইনাল খেলার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করতে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। সেইসাথে সবগুলো ইভেন্টে দলকে ফাইনালে তোলার নেতৃত্ব দেওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী হতে যাচ্ছে রোহিত শর্মা।
২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সাথে হারের পর একই বছর নিজ দেশে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রেভস হেডের এক বিধ্বংসী ইনিংসের কারণে অস্ট্রেলিয়ার কাছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছিল ভারতকে। এরপর ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে সাউথ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবারও চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠলো ভারত। অর্থাৎ ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আইসিসির সবগুলো টুর্নামেন্টেই ফাইনাল খেলার রেকর্ডের অধিকারী একমাত্র দল এখন ভারত।
গতকাল অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রথম সেমিফাইনালের আগে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে দুইদলই ছিল সমানে সমান। এর আগে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দুই দলই দুবার করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে। বর্তমান ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ইন্ডিয়া ১ম আর অস্ট্রেলিয়া ২য় দল। তাই শক্তি-সামর্থ্য, রেকর্ড আর র্যাঙ্কিং বিবেচনায় একটা জমজমাট সেমিফাইনালের প্রত্যাশা ছিল ক্রিকেট অনুরাগীদের। তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য দুঃসংবাদ ছিল তাদের নিয়মিত ৫/৬ জন খেলোয়ারের অনুপস্থিতি। অন্যদিকে কন্ডিশন ও ভ্রমনের ঝাকি এসব দিক দিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল ভারত। কারন দুবাইতে একই মাঠে তারা টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ খেলছে।
টুর্নামেন্টে অপ্রতিরোধ্য ভারতের সাথে ইনজুরির কারনে বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়ার ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জস হেজলউড এবং মিচেল মার্শ টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অনুপস্থিত। এর মধ্যে আফগানিস্তান ম্যাচে ওপেনার ম্যাথু শর্ট ইনজুরড হওয়ায় সেমিতে খেলা হয় নি তারও। ব্যাটিংয়ে ট্রেভস হেড ঝড়ো শুরু করলেও ৩৯ রানেই থামতে হয় তাকে। এরপর স্টিভেন স্মিথ (৭৩), মারনাস লাবুসেন (২৯) ও অ্যালেক্স কেরি (৬১) মিলে ২৬৪ রানের স্কোর দাড় করলেও উড়তে থাকা ভারতের বিপক্ষে এই টোটাল যে যথেষ্ট নয়!
ব্যাটিংয়ের শুরুতে শুভমান গিলের উইকেট পড়লেও দেখে শুনে চেজ করতে থাকে ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় সব ব্যাটারেরই কমবেশি কন্ট্রিবিউশন ছিল। তবে বিরাট কোহলির ৯৫ রানের ৮৪ রানের ধৈর্য্যশীল ইনিংসের কারনে জয়ের বন্দরে পৌছাতে দলকে তেমন কোনো বেগ পেতে হয় নি। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয়ে ২০১৭ সালের পর আবারও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পৌছালো ভারত।
আজ নিউজিল্যান্ড ও সাউথ আফ্রিকার মধ্যকার অনুষ্ঠিত ২য় সেমিফাইনালের জয়ী দলের সাথে ৯ই মার্চ দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত।
0 মন্তব্যসমূহ